Islamic Article Archive

ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী

(Page 1 of 2)   
« Prev
  
1
  2  Next »
পৃথিবীতে বৃহৎ মানব জাতি সৃষ্টি পর্যন্ত আল্লাহ তা’য়ালার সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি ছিলেন হযরত আদম (আঃ) ও হযরত হাওয়া (রাঃ)। তাদের সন্তানদের মধ্যে সর্বোৎকৃষ্ট মানব কারা? অবশ্যই নবী-রাসূলগণ। তারা তাদের নিজ নিজ যুগের সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বোৎকৃষ্ট মানব। কোনো যুগের সেরা আদম সন্তানের উপরই আল্লাহ তা’য়ালা নবুওতের এবং রেসালতের সম্মান ও দায়িত্ব অর্পণ করেন। নবী রাসূলগণ যেহেতু মানব জাতির সেরা, তাদের আমলও ছিল সর্বোত্তম।
বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা·) এর নবুয়ত প্রাপ্তির পর থেকে আল্লাহর দেয়া বিধান তথা ইসলামের শাশ্বত বাণীকে সামাজিক এবং রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে প্রতিষ্ঠিত করার প্রয়াসে পত্র মারফত ইসলামের দাওয়াত তাঁর জীবনের বিভিন্ন সময়ে পৌঁছিয়ে ছিলেন, তার মধ্য থেকে একটি উল্লেখযোগ্য পত্র অবিকল সীলমোহরসহ পত্রস্থ করা হলো।
ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম হলো কাদেরিয়া ত্বরিকার প্রতিষ্ঠাতা বড় পীর হজরত মুহীউদ্দীন আবদুল কাদের জিলানী রহমাতুল্লাহি আলাইহির ওফাত দিবস। হিজরি ৫৬১ সালের ১১ রবিউস্‌সানি আধ্যাত্মিক জগতের এ মহান কৃতী পুরুষ ওফাতপ্রাপ্ত হন। ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের কাছে দিনটি তাই বেশ তাৎপর্যবহ।
কুতুবুল আলম, বেলায়াতের প্রজ্ঞাদাতা, আউলিয়াকুল শিরোমণি শায়খ আবদুল কাদের জিলানীর (রহ·) এই সংক্ষিপ্ত জীবনী আলোকপাত করার উদ্দেশ্য হল- ‘তানাজজালুর রাহমাতি ইন্নাদজিকরিছ ছালেহীন’, আউলিয়াকেরাম মুমিন বান্দাদের জীবন আলোচনাকালে আল্লাহর রহমত ও বরকত নাজিল হয়। রবিউস সানি মাসের ১১ তারিখের ইছালে সওয়াব মিলাদ মাহফিলকে ফাতেহায়ে ইয়াজদাহম বলে।
মহানবী (সাঃ) ইয়াতীমদের অভিভাবক ছিলেন। তিনি সর্বদা ইয়াতীমের খোঁজ-খবর রাখতেন। তিনি নিজেও ইয়াতীমদের সাহায্য করতেন এবং অন্যদেরকেও এ বিষয়ে তাগিদ দেন। তিনি বলেছেন আল্লাহ সেই গৃহকে খুবই পছন্দ করেন যে গৃহ ইয়াতীমকে মর্যাদার আসনে বসায়। ‘যে ব্যক্তি কোন ইয়াতীমকে তার আহারে শরীক করবে, আল্লাহ তাকে জান্নাতে দাখিল করবেন’।
মানুষ সামাজিক জীবন। সামাজিক পরিমন্ডলে সবার মাঝে বেড়ে ওঠা মানুষের সহজাত প্রকৃতি। সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে কোনো মানুষ বাস করতে পারে না। সমাজে বাস করতে গিয়ে মানুষ পারস্পরিক লেনদেন ও আদান-প্রদান করে থাকে। একজনের প্রয়োজনে অন্যজন লাগে। একে অপরের সঙ্গে সম্পর্ক কায়েম করতে হয়। মানুষের সামজিক এই জীবনাচারের মধ্যে তার মানবিক প্রকৃতি ফুটে ওঠে। সমাজ দর্পণে ভেসে ওঠে চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। তার আচারণ-আচরণ সম্পর্কে অবগত হয় সমাজের প্রতিটি সদস্য। মানুষের আপন সত্তাকে পরিচিতি করে তোলার উপযুক্ত ক্ষেত্র এটাই।
রাসুলুল্লাহর (সা.) জীবন এমন এক মহান সমুদ্র যে, লাখ লাখ লোকের আলোচনা সত্ত্বেও এ আলোচনা শেষ হবে না। তাই এ মহামানবের শিক্ষা ও আদর্শ সম্পর্কে এবং তাঁর জীবনের বিভিন্ন দিক ও ঘটনা নিয়ে এত গবেষণা হওয়ার পরও নতুন কিছু বলার থেকেই যায়। হজরত আয়েশা (রা.) সাহাবাদের প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, ‘কোরআনই তাঁর চরিত্র।’ আল-কোরআনে যে নির্দেশাবলী এসেছে, রাসুলুল্লাহের (সা.) চরিত্রে তার বাস্তব রুপ ফুটে উঠেছে। মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর রাসুল। তিনি খাতামুন্নাবিয়িন ও সাইয়েদুল মুরসালিন অর্থাৎ সর্বশেষ নবী ও রাসুল এবং সব নবী-রাসুলের নেতা।
প্রিয় নবী হজরত রাসূলে করিম সাঃ যে অনিন্দ্যসুন্দর আদর্শ পেশ করেছেন, তা যেমন চিরস্মরণীয়, তেমনি চিরঅনুকরণীয়। পবিত্র কুরআনে তাঁর মহান আদর্শকে ‘উস্‌ওয়াতুন হাসানা’ বা উত্তম নমুনা বলা হয়েছে। তাঁর পবিত্র জীবনের প্রতিটি ঘটনা ছোট হোক কি বড়, ব্যক্তিজীবনের হোক কি সমাজ ও জাতীয় জীবনের সবই সংরক্ষিত রয়েছে। এমনকি তাঁর জীবনের প্রতিটি কথা কণ্ঠস্থ করা হয়েছে। অগণিত সাধক তাঁর মহান বাণীর প্রচার-প্রসারে জীবন উৎসর্গ করেছেন। কেননা তাঁর প্রতিটি কথা ও কাজ সমগ্র মানবজাতির জন্য একমাত্র অনুসরণীয় আদর্শ। তাই বলছিলাম, পরিশুদ্ধ জীবন গঠনে মহানবী সাঃ-এর সুন্নাহ বা মহান আদর্শের অনুকরণ ছাড়া গত্যন্তর নেই।
মানুষকে সৎপথ প্রদর্শনের জন্য আল্লাহ প্রত্যেক জাতির কাছে নবী-রাসূল প্রেরণ করেছেন। তাঁরা মানুষের কাছে আল্লাহর বাণী পৌঁছাতেন । আল্লাহ বলেছেন, ‘এমন কোনো জনপদ নেই যেখানে আমি নবী-রাসূল প্রেরণ করিনি।’ প্রত্যেক নবী-রাসূল মানুষকে আল্লাহর পথে চলার জন্য, সৎপথে চলার জন্য বলতেন। তাঁদের জীবন ছিল সবার অনুকরণীয়। আমাদের মহানবী সাঃ-এর জীবনও অনুকরণীয়।
বর্তমান বিশ্বের খ্যাতনামা গবেষক ও ইতিহাসবিদ আল্লামা আবুল হাসান আলী নদভী ইহুদিদের ধর্মীয়, নৈতিক ও চারিত্রিক অধঃপতনের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, ‘ইহুদিরা নৈতিক অবক্ষয় ও চারিত্রিক অধঃপতনের শেষ মর্গে গিয়ে পৌঁছেছিল। নিজেদের প্রয়োজন পূরণের উদ্দেশ্যে নিকৃষ্টতম কাজ জাদু-টোনা, প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্য খাদ্যে বিষ মেশানো, বিদ্রূপবাণ নিক্ষেপ, দ্বন্দ্ব-সংঘর্ষ সৃষ্টি, ধোঁকা নিক্ষেপক অর্থপূর্ণ কথা বলে আহত নিজের অন্তরকে প্রবোধ দান করা তাদের স্বভাবে পরিণত হয়েছিল। যা ওই সব হীন মানসিকতার ও পরাজিত সমাজের পরিচয়জ্ঞাপক চিহ্ন ছিল। যারা পুরুষোচিত গুণ ও নৈতিক সাহস থেকে বঞ্চিত হয়ে থাকে।’
(Page 1 of 2)   
« Prev
  
1
  2  Next »


No popular authors found.
No popular articles found.