Islamic Article Archive

ঈদ-উল-আযহা

(Page 1 of 2)   
« Prev
  
1
  2  Next »
কোরবানি শব্দটি কোরআনে নেই। কোরআনে ব্যবহৃত শব্দটি হল জবেহ। জবেহ অর্থ উৎসর্গ করা, পবিত্র করা, শুদ্ধি করা। মানবদেহ সব পাপের উৎসভূমি। এর ভেতর ও বাইরে রয়েছে পাপ সংঘটিত হওয়ার সব উপাদান। এসব উপাদানে দেহের মধ্যে আপাত মধুর মোহ সৃষ্টি করে।
ঈদুল আজহা। পবিত্র হজের পরবর্তী দিন। সারা মুসলিম বিশ্ব আনন্দমুখর। একাধিক কারণে ঈদ বৈশিষ্ট্যময়। এ ঈদে মুসলিম জাহান পালন করে হযরত ইব্রাহিম (আ·)-এর সুন্নাত। এ সময়ই মক্কা মোয়াজ্জমায় অনুষ্ঠিত হয় মুসলিম বিশ্ব কনফারেন্স পবিত্র হজ। এ ঈদে দুনিয়ার মানুষ নিবিড়ভাবে অনুভব করে বিশ্ব মুসলিম ভ্রাতৃত্ব।
(মোশারেফ হোসেন পাটওয়ারী) আরবি ‘কুরব’ ধাতু থেকে এসেছে কোরবান শব্দটি। ‘কুরব’ অর্থ নৈকট্য। ‘কুরবুন’ বা কোরবানি অর্থ আত্মত্যাগ, উৎসর্গ বা বিসর্জন ইত্যাদি। শরিয়তের পরিভাষায় আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে মহান আল্লাহর নামে কোন কিছু উৎসর্গ করার নাম কোরবানি।
নিজের পশুত্বকে কোরবানি করাই হল ঈদুল আজহার মৌলিক উদ্দেশ্য। উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে নিজের আমিত্ব ও পশুত্বকে কোরবানি করার বাস্তবতা আমরা তেমন একটা খুঁজে পাই না। আমরা কিভাবে প্রকৃত কোরবানিতে অংশ নিতে পারি তার ওপরই কয়েকটি প্রস্তাবনা পেশ করা হল।
মহান স্রষ্টা আল্লাহতা’আলার সমগ্র সৃষ্টিই তার প্রিয়। তবে মানুষ সৃষ্টির সেরা হিসেবে পরিচিত। কেননা, মানুষকেই তিনি পরীক্ষার মাধ্যমে শ্রেষ্ঠত্বের পদমর্যাদায় স্থান দান করে থাকেন, অন্য কোন সৃষ্টজীবকে নয়।
আজ থেকে প্রায় সাড়ে সাত হাজার বছর পূর্বে মুসলিম জাতির আদি পিতা হযরত আদম (আঃ)-এর সন্তান হাবিল ও কাবিলের মধ্যে বিবাহকে কেন্দ্র করে বিবাদ দেখা দিলে হযরত আদম (আঃ) তাদেরকে কোরবানী করার আদেশ দেন। তখন থেকেই কোরবানীর প্রচলন শুরু হয়।
কোরবানি করা অত্যন্ত ছওয়াবের কাজ হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে কোরবানির তারিখের কোরবানি করাই আল্লাহতায়ালার কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয়। কোরবানির রক্ত ভুমিতে পতিত হওয়ার আগেই আল্লাহতায়ালার দরবারের কবুল হয়ে যায়। হজরত রাসুলে কারিম (সা.) বলেছেন, কোরবানির পশুর যত পশম থাকে তার পরিবর্তে ৩৩টি পুণ্য লেখা হয়ো থাকে। সুতরাং কোরবানি দ্বারা নেক হাসিল হয়। এতে কোনো সন্দেহ নেই।
কোরবানির অত্যধিক ফজিলত রয়েছে। হজরত আয়িশা (রা.) থেকে বর্ণিত-তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘কোরবানির দিন রক্ত প্রবাহিত করার চেয়ে প্রিয় কোনো আমল আল্লাহর কাছে নেই। কোরবানিকারী কিয়ামতের দিন জবেহকৃত পশুর লোম, শিং, ক্ষুর, পশম ইত্যাদি নিয়ে আল্লাহর কাছে উপস্হিত হবে।
কোরবানি একটি আরবি শব্দ। এর অর্থ ত্যাগ, উৎসর্গ, নৈকট্য লাভ ইত্যাদি। ইসলামের পরিভাষায় জিলহজ মাসের দশ তারিখ থেকে বারো তারিখ পর্যন্ত সময়ের ব্যবধানে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে বিশেষ কিছু পশু জবাইকেই আমরা কোরবানি বলি।
ইসলামী জীবনবিধানে মুসলমানদের জন্য স্বীকৃত দুটি ধর্মীয় উৎসব আছে- এক মাস রমজানের সিয়াম পালনের পর শাওয়াল মাসের প্রথম তারিখে আসে ঈদুল ফিতর একটি এবং অপরটি জিলহজ মাসের দশ তারিখে পালিত হয় ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ।
(Page 1 of 2)   
« Prev
  
1
  2  Next »


No popular authors found.
No popular articles found.