Islamic Article Archive

অলী-আউলিয়া

(Page 1 of 2)   
« Prev
  
1
  2  Next »
সাইয়্যেদেনা হজরত মহিউদ্দিন আবদুল কাদির জিলানী (রহ•) মাতৃগর্ভে আবির্ভূত হওয়ার প্রথম মাসেই হজরতের পুণ্যবতী বুজুর্গ মহীয়সী জননী উম্মুল খায়ের ফাতিমা (রা•) স্বপ্নে দেখতে পান- হজরত মা হাওয়া (আ•) আগমন করে তাকে বলছেন, ‘ফাতিমা! এ জগতে তুমিই সৌভাগ্যশালিনী মহিলা। তোমার গর্ভে কুতুবুল আকতার, গাউসুল আযম, আউলিয়াকুলের মুকুটমণি আবিভূêত হয়েছেন।’ দ্বিতীয় মাসে হজরত ইব্রাহীম (আ•)-এর স্ত্রী হজরত সারা (আ•) স্বপ্নে হজরত উম্মুল খায়ের ফাতিমাকে বললেন, ‘হে ফাতিমা! তোমার জীবন ধন্য! নূরে আযম তোমার গর্ভে আবির্ভূত হয়েছেন।’
প্রিয় নবী (সাঃ) এরশাদ করেন আমার মা তিনজন। প্রথমে আমার গর্ভধারিণী মা বিবি আমেনা, দ্বিতীয় দুধমাতা হালিমাতুস ‘সাদিয়া’ এবং তৃতীয় মা হচ্ছেন ‘হযরত উম্মে আয়মান’ (রাঃ)। তার আর একটি নাম নাজদিয়া। কিন্তু ঐতিহাসিকগণ উম্মে আয়মান বলেই সর্বত্র উল্লেখ করেছেন। তার পিতার নাম ফররুক ইবনে মাসরুক। মাতার নাম উয্‌রা। তিনি সিরিয়া রাজ্যের অন্তর্গত রামাল্লা শহরের অধিবাসী গাফতানী গোত্রে জন্মগ্রহণ করেন। রামাল্লা থেকে পিতার সাথে উম্মে আয়মান দামেস্ক যাওয়ার পথে দস্যু কর্তৃক ফররুকের কাফেলা অতর্কিত আক্রমণের শিকার হয়। ফররুকসহ আরো কয়েকজনকে আহত এবং নিহত করে সব কিছু লুট করে নিয়ে যায়। কাফেলার সাথে থাকা বালক-বালিকা এবং স্ত্রী লোকদেরকে দস্যুদল খোলা বাজারে পণ্যের মত বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন চরিত্রের মানুষের কাছে বিক্রি করে দেয়। হযরত উম্মে আয়মান ছিলেন তাদের মধ্যে এগার-বারো বছরের এক বালিকা।
মনীষীজনকে পৃথিবী বারবার পায় না, যখন পায় তখন এ ধরা উদ্বেলিত হয়, আলোড়িত হয় মানুষের অন্তর, রঙিন হয় তাদের আলোকে মানুষের জীবন ও তার ধারা। সময়ের প্রান্তে-সীমান্তে পৃথিবী খুঁজে ফেরে সেসব সোনালি মানুষকে। তেমনি একদল মানুষ এসেছিলেন একটা শ্রেষ্ঠ সময়ে, যে সময় পৃথিবী আর কখনো দেখবে না, যে ন্যায়নিষ্ঠা পৃথিবী আর কোনো দিন পাবে না, যে প্রশান্তি পৃথিবী আর অনুভব করবে না এবং সুদীর্ঘ চৌদ্দ শতকের কোনো একটি মুহূর্তেও পায়নি, অনুভব করেনি। সেই দলে ছিলেন এমন একজন মানুষ যে তাঁর সারাটি বাল্যজীবন ঊষর মরুর বুকে উষ্ট্রচারণের কাজ করেছেন; একদা যখন ‘যাজযান’ প্রান্তর অতিক্রম করছিলেন তখন অশ্রুভারাক্রান্ত হৃদয়ে বলেছিলেনঃ ‘আল্লাহু আকবার! এমন এক সময় ছিল যখন আমি পশমি জামা পরে এই মাঠে প্রখর রৌদ্রতাপে উট চরাতাম। যখন শ্রান্ত-ক্লান্ত হয়ে ক্ষণিকের জন্য বসতে যেতাম, তখন পিতার হাতে নির্মমভাবে প্রহৃত হতাম। কিন্তু আজ আমার পক্ষে এমন দিন এসেছে, আমার ওপর এক আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোনো মালিক নেই।’
জন্মঃ আমিরুল মুমিনিন ফিল হাদিস হজরত ইমাম বুখারী (রহ.) ১৯৪ হিজরি সালের ১৩ শাওয়াল পবিত্র জুমার দিনে বর্তমান তাজিকিস্তানের রাজধানী সমরকন্দ থেকে প্রায় ৩৮ মাইল পশ্চিমে অবস্হিত বুখারা শহরে জন্মগ্রহণ করন। তার নাম মুহাম্মদ, উপনাম আবু আবদুল্লাহ, উপাধি আমিরুল মুমিনিন ফিল হাদিস’।
হিজরী ৫৩৭ সন ছিল হযরত খাজা গরীব নেওয়াজ (রঃ)-এর জন্ম কাল। এ সময় গোটা উত্তর পশ্চিম এশিয়া জুড়ে সামাজিক নৈরাশ্য, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক সঙ্কট বিরাজ করতে ছিল। সর্বত্র নিরাপত্তাহীন ও অরাজকতার মাঝে লোকজনের দিনাতিপাত হত। অবশ্যই বলতে হয় হিজরী ষষ্টম শতাব্দী ছিল বিশ্ব মুসলমানদের জন্য এক কঠিন ক্রান্তিকাল।
নবুয়ত রিসালাতের ধারা বন্ধ হবার পর থেকে আজ পর্যন্ত যে সকল মহামনীষী জ্ঞানের রাজ্যের অতুলনীয় অবদান রেখে মুসলমান ও ইসলামের ঝাণ্ডাকে সমুন্নত রেখে গেছেন হুজ্জাতুল ইসলাম ইমাম আল গাযযালী (রহঃ) নিঃসন্দেহে তাদের অন্যতম। যার জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও দর্শনের আলোকচ্ছটা ইসলামী জগতকে আলোকময় করে রেখেছে। মুসলমানদের এবং জ্ঞান তাপসদের পথিকৃৎ হয়ে থাকবেন যুগ যুগ ধরে।
উপমহাদেশে ইসলাম ধর্ম প্রচার, প্রসার ও সমাজ সংস্কার আন্দোলনের পথিকৃৎ ওলিয়ে কামেল শাহ্ সুফি মরহুম হজরত মাওলানা কারামত আলী জৌনপুরী (রহ.) ১২১৫ হিজরী ১৮ মহরম ভারতের উত্তর প্রদেশের অন্তর্গত জৌনপুর শহরের মোল্লাটোলায় জন্মগ্রহণ করেন। তার কনিষ্ঠ পুত্র মরহুম হজরত মাওলানা আব্দুল আউয়াল জৌনপুরী (রহ.)-এর কর্মজীবন, শিক্ষা, সাধনা ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য আমাদের জাতীয় ইতিহাসের গতিধারাকে বিপুলভাবে প্রভাবিত করেছে।
হজরত শাহ আবদুস সাত্তার রহঃ বাংলাদেশের কয়েকজন প্রবীণ আলেম ও পীর কামেলের মধ্যে অন্যতম ছিলেন। তিনি বিশ্ববিখ্যাত দারুল উলুম দেওবন্দ (ভারত) থেকে ১৯৫০-৫১ সালে দাওরায়ে হাদিস পাস করেন। অতঃপর উস্তাদ শায়খুল ইসলাম কুতবে আলম হজরত মাওলানা সৈয়দ হোসাইন আহমদ মাদানী রহঃ-এর পবিত্র হস্তে বয়আত গ্রহণ করেন।
ছারছীনা দরবারের অন্যতম খাদেম ও মুরব্বি দেশের বিশিষ্ট আধ্যাত্মিক আলেম হজরত আযীযুর রহমান নেছারাবাদী-কায়েদ সাহেব হুজুর গত ২৮ এপ্রিল ইন্তেকাল করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। হজরত কাযেদ সাহেব হুজুর ছিলেন বহুবিধ যোগ্যতা ও গুণের অধিকারী। শিশুকাল থেকে বৃদ্ধ বয়স পর্যন্ত বহুমুখী প্রতিভার বিকাশ ঘটিয়েছেন। নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন একজন সফল ব্যক্তি হিসেবে।
মুসলিম বনিক সম্প্রদায়ের মাধ্যমেই সর্বপ্রথম বাংলাদেশে ইসলামের সূচনা হয় এবং প্রচার, প্রসার ও প্রতিষ্ঠা লাভ করে আলেম ও সুফি সাধকদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও ঐকান্তিক নিষ্ঠার ফলে। আরব, ইয়েমেন, ইরাক, ইরান, খোরাসান, মধ্য এশিয়া ও উত্তর ভারত থেকে আলেম ও সুফীগণ বাংলায় আগমন করেন। ইসলাম প্রচার ও প্রসারের ক্ষেত্রে তারা এক অবিস্মরণীয় অবদান রাখেন। তাঁদের চারিত্রিক মাধুর্যে উজ্জীবিত হয়ে হিন্দু ও অন্যান্য সম্প্রদায় দলে দলে ইসলামের সুশীতল ছায়ায় আশ্রয় নেয়।
(Page 1 of 2)   
« Prev
  
1
  2  Next »


No popular authors found.
No popular articles found.