Islamic Article Archive

নবী ও রাসুল

(Page 1 of 2)   
« Prev
  
1
  2  Next »
রাসুলুল্লাহর (সা.) জীবন এমন এক মহান সমুদ্র যে, লাখ লাখ লোকের আলোচনা সত্ত্বেও এ আলোচনা শেষ হবে না। তাই এ মহামানবের শিক্ষা ও আদর্শ সম্পর্কে এবং তাঁর জীবনের বিভিন্ন দিক ও ঘটনা নিয়ে এত গবেষণা হওয়ার পরও নতুন কিছু বলার থেকেই যায়। হজরত আয়েশা (রা.) সাহাবাদের প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, ‘কোরআনই তাঁর চরিত্র।’ আল-কোরআনে যে নির্দেশাবলী এসেছে, রাসুলুল্লাহের (সা.) চরিত্রে তার বাস্তব রুপ ফুটে উঠেছে। মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর রাসুল। তিনি খাতামুন্নাবিয়িন ও সাইয়েদুল মুরসালিন অর্থাৎ সর্বশেষ নবী ও রাসুল এবং সব নবী-রাসুলের নেতা।
প্রিয় নবী হজরত রাসূলে করিম সাঃ যে অনিন্দ্যসুন্দর আদর্শ পেশ করেছেন, তা যেমন চিরস্মরণীয়, তেমনি চিরঅনুকরণীয়। পবিত্র কুরআনে তাঁর মহান আদর্শকে ‘উস্‌ওয়াতুন হাসানা’ বা উত্তম নমুনা বলা হয়েছে। তাঁর পবিত্র জীবনের প্রতিটি ঘটনা ছোট হোক কি বড়, ব্যক্তিজীবনের হোক কি সমাজ ও জাতীয় জীবনের সবই সংরক্ষিত রয়েছে। এমনকি তাঁর জীবনের প্রতিটি কথা কণ্ঠস্থ করা হয়েছে। অগণিত সাধক তাঁর মহান বাণীর প্রচার-প্রসারে জীবন উৎসর্গ করেছেন। কেননা তাঁর প্রতিটি কথা ও কাজ সমগ্র মানবজাতির জন্য একমাত্র অনুসরণীয় আদর্শ। তাই বলছিলাম, পরিশুদ্ধ জীবন গঠনে মহানবী সাঃ-এর সুন্নাহ বা মহান আদর্শের অনুকরণ ছাড়া গত্যন্তর নেই।
মানুষকে সৎপথ প্রদর্শনের জন্য আল্লাহ প্রত্যেক জাতির কাছে নবী-রাসূল প্রেরণ করেছেন। তাঁরা মানুষের কাছে আল্লাহর বাণী পৌঁছাতেন । আল্লাহ বলেছেন, ‘এমন কোনো জনপদ নেই যেখানে আমি নবী-রাসূল প্রেরণ করিনি।’ প্রত্যেক নবী-রাসূল মানুষকে আল্লাহর পথে চলার জন্য, সৎপথে চলার জন্য বলতেন। তাঁদের জীবন ছিল সবার অনুকরণীয়। আমাদের মহানবী সাঃ-এর জীবনও অনুকরণীয়।
বর্তমান বিশ্বের খ্যাতনামা গবেষক ও ইতিহাসবিদ আল্লামা আবুল হাসান আলী নদভী ইহুদিদের ধর্মীয়, নৈতিক ও চারিত্রিক অধঃপতনের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, ‘ইহুদিরা নৈতিক অবক্ষয় ও চারিত্রিক অধঃপতনের শেষ মর্গে গিয়ে পৌঁছেছিল। নিজেদের প্রয়োজন পূরণের উদ্দেশ্যে নিকৃষ্টতম কাজ জাদু-টোনা, প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্য খাদ্যে বিষ মেশানো, বিদ্রূপবাণ নিক্ষেপ, দ্বন্দ্ব-সংঘর্ষ সৃষ্টি, ধোঁকা নিক্ষেপক অর্থপূর্ণ কথা বলে আহত নিজের অন্তরকে প্রবোধ দান করা তাদের স্বভাবে পরিণত হয়েছিল। যা ওই সব হীন মানসিকতার ও পরাজিত সমাজের পরিচয়জ্ঞাপক চিহ্ন ছিল। যারা পুরুষোচিত গুণ ও নৈতিক সাহস থেকে বঞ্চিত হয়ে থাকে।’
সন্ত্রাস বর্তমান সময়ে আমাদের দেশসহ সারাবিশ্বে একটি বহুল আলোচিত ও উদ্বেগের বিষয় হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে। শুধু এ দেশেই বা বলি কেন? গোটা বিশ্বেই এটি এখন সর্বাধিক ভাবনার বিষয়বস্তু। বিজ্ঞানের অভাবনীয় উন্নতি ও পরমাণু আবিষ্কারের আজকের যুগেও বিশ্ব নেতৃবৃন্দ রীতিমতো শঙ্কিত হচ্ছেন সন্ত্রাসবাদের ক্রমবিস্তারের কথা ভেবে। সন্ত্রাসকে যদি সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করি তাহলে কোনো কোনো ক্ষেত্রে জাতীয় কিংবা আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে এটিই এখন প্রধান সমস্যা। বলা বাহুল্য, আমাদের দেশে বর্তমানে এটি একটি জাতীয় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত।
বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ মুস্তাফা (সাঃ)-কে মহান আল্লাহ তা’য়ালা মানব জাতির জন্য কল্যাণ ও সর্বোত্তম আদর্শ হিসাবে সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহর দ্বীন প্রচারক হিসাবে তিনি ছিলেন মুসলমানদের এবং বিশ্বের সকল মানবের আদর্শ। কিন্তু পিতা হিসাবে, স্বামী হিসাবে, সুরুচিশীল ও সংস্কৃতিবান মানুষ হিসাবে তিনি ছিলেন ধর্ম ও মত নির্বিশেষে ইয়াহুদ, নাসারা, কাফির, পৌত্তলিক-সকলেরই আদর্শ। তাঁর ব্যবহার, আচরণ, পোশাক-পরিচ্ছদ, কথা-বার্তা, চাল-চলন যে কোন রুচিশীল এবং সুন্দর জীবন যাপনে আগ্রহী ইয়াহুদ-নাসারা-কাফিররা সকলেই অনুকরণীয় ছিল।
স্বাধীনতা মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে মানুষের জন্য একটি বিশেষ নেয়ামত। এটি মানুষের জন্মগত অধিকার। এজন্যই মহানবী (সাঃ) বলেছেন, প্রত্যেক মানব সন্তান ফিতরাতের উপর জন্মগ্রহণ করে। এই প্রকৃতি বা ফিতরাতের মধ্যেই স্বাধীনতার মর্মকথা নিহিত আছে। প্রত্যেক মানুষই চায় স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকতে, স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশ করতে। কেননা আলোক ব্যতীত যেমন পৃথিবী জাগেনো, স্রোত ব্যতীত যেমন নদী টিকে না, তেমনি স্বাধীনতা ব্যতীতও কোন জাতি কখনো বেঁচে থাকতে পারে না।
শান্তি-কল্যাণ ও সহযোগিতাপূর্ণ সহাবস্থানের শিক্ষায় মানব চরিত্রকে সংশোধন ও উন্নয়নের জন্য বিশ্ব মানবতার মুক্তির দূত হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) আরবের প্রতিকূল অবস্থার মধ্যে আবিভূêত হন। তিনি (সাঃ) সামাজিক ও ধর্মীয় ক্ষেত্রে যে সংস্কার বাস্তবায়ন করেন তা আজো সারা বিশ্বের শত কোটি মানুষের জন্য প্রেরণার উৎস। প্রিয় নবী (সাঃ) এর আর্বিভাব পূর্বকালীন সময়ের মানুষের অপকর্মের বর্ণনায় ‘বিশ্বনবী গ্রন্থে বলা হয়েছে “তাদের আচরণে শয়তানও লজ্জা পেত!’ সে সময় সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক সকল ক্ষেত্রে ভয়াবহ ও বিশৃংখল অবস্থা বিরাজ করছিল। ব্যক্তিগত ও ধর্মীও জীবনে ছিল চরম নৈরাজ্য, এজন্য ঐ সময়কে বলা হয় ‘আইয়্যামে জাহিলিয়াত’ বা মূর্খতার যুগ।
সেকালে পৃথিবীর উল্লেখযোগ্য সভ্যতার ব্যাপক বিস্মৃতির মাঝে রহমাতুল্লীল আলামীন মহানবী হজরত মোহাম্মদ (সঃ)-এর শুভ মহান আবির্ভাব। তখন পাশ্চাত্যে গ্রীক-রোমক-সভ্যতা, মধ্যপ্রাচ্যে মিসরীয়-ব্যাবিলন, ফনেসী ও ইরানী সভ্যতা এবং এই উপমহাদেশে ভারতীয় ও চৈনিক সভ্যতার কথা কারোরই অজানা ছিলো না। কিন্তু মধ্যেপ্রাচ্যের ধূলি-ধূসর আরব অঞ্চলটি ছিলো পৃথিবীর অন্যান্য অঞ্চল থেকে সম্পূর্ণ আলাদা এবং মানবিক গুণ তথা সামাজিক, রাজনৈতিক এক কথায় সর্বক্ষেত্রে কুসংস্কার ও পংকিলতায় নিমজ্জিত। এমনি এক পরিবেশে ইতিহাসের বিশাল এক সুচিভেদ্য অন্ধকারাচ্ছন্ন মরু প্রান্তরে আলোকবর্তিকা হিসাবে আবির্ভূত হলেন মহানবী হজরত মোহাম্মদ (সঃ)।
মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সুন্দর পুথিবী গড়ে, তাতে সুন্দর ও প্রিয় সৃষ্টি মানুষ পাঠিয়েছেন। এই মানবজাতির মধ্য হতেই তিনি (আল্লাহ) তাদের (মানুষকে) সৎপথে চালানোর জন্য দিক-নির্দেশনায় অতি উত্তম ও সুন্দর চরিত্রের মানুষ হিসেবে পৃথিবীতে প্রেরণ করেছেন। তাদের মধ্যে যিনি সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারী, তিনিই হলেন সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও রাসুল ‘মুহাম্মদুর রাসূলুল্লাহ্‌’ সাল্লাল্লাহু আলইহিওয়া সাল্লাম।
(Page 1 of 2)   
« Prev
  
1
  2  Next »


No popular authors found.
No popular articles found.