Islamic Article Archive

দৈনন্দিন জীবনে ইসলাম

(Page 1 of 5)   
« Prev
  
1
  2  3  4  5  Next »
মানবজীবনে সবরের গুরুত্ব ও তাৎপর্য অনস্বীকার্য। চাই সে মুসলিম কিংবা অমুসলিম হোক। সবর শব্দটি আরবি। এটি একটি ব্যাপক অর্থবোধক শব্দ। যার আভিধানিক অর্থ হচ্ছে বাধা দেয়া, বিরত রাখা, বেঁধে রাখা, ধৈর্য-সহ্য, সহিষ্ণুতা মেজাজের ভারসাম্যতা, আত্মসংযম, অটল-অবিচল থাকা ইত্যাদি।
ইসলাম একটি পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা। মানবজীবনের এমন কোন দিক নেই যা নিয়ে ইসলাম আলোচনা করেনি। ইসলামের সেই আলোচিত বিষয়গুলোর মধ্যে মানুষের সাথে ভালো কথা বলা এবং সুন্দার আচরণ করা অন্যতম একটি। মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে এরশাদ করেছেনঃ আপন পালনকর্তার পথের প্রতি আহবান করুন জ্ঞানের কথা বুঝিয়ে ও উপদেশ শুনিয়ে উত্তমরূপে এবং তাদের সাথে বিতর্ক করুন উত্তম পন্থায়। (সূরা নাহল-১২৫)
পৃথিবীতে সবচেয়ে মধুর শব্দটি হচ্ছে ‘মা’। জগৎ সংসারের শত দুঃখ-কষ্টের মাঝে যে মানুষটির একটু সান্ত্বনা আর স্নেহ-ভালবাসা আমাদের সমস্ত বেদনা দূর করে দেয় সেই মানুষটিই হলো ‘মা’। মায়ের চেয়ে আপনজন পৃথিবীতে আর কেউ নেই। দুঃখে-কষ্টে, সংকটে-উত্থানে যে মানুষটি স্নেহের পরশ বিছিয়ে দেয় তিনি হচ্ছেন আমাদের সবচেয়ে আপনজন ‘মা’।
ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে আত্মমর্যাদাবোধ হচ্ছে শরাফতের মূল চাবিকাঠি। আত্মমর্যাদাবোধ শূন্য ব্যক্তি মেরুদণ্ড সোজা করে চলতে পারে না এবং কারো কাছেই সম্মানের পাত্র হতে পারে না। এটা অর্জন করতে হলে উন্নত নৈতিকতাবোধে উজ্জীবিত একজন মানুষকে চোখ-কান-বুদ্ধি-দক্ষতা খোলা রেখে তার কথাবার্তা আচার-আচরণ পোশাক-পরিচ্ছদ সব কিছু সামলে চলতে হয়। তাকে খেয়াল রাখতে হবে এই আত্মমর্যাদা রক্ষা করতে যেন কোনো অবস্থাতেই হীনম্মন্যতাবোধ বা অহঙ্কারের বিষবাষ্পে সে আচ্ছাদিত না হয়। কেননা ইসলাম বলেঃ অহঙ্কারী লোকের জন্য বেহেশত হারাম।
কোনো প্রকার রাখঢাক আর ভূমিকার অবতারণা না করেই জীবনবিধান আল কুরআন একাধিক আয়াতে ধনীর অর্জিত, প্রাপ্ত সম্পত্তিতে গরিব, নিঃস্ব ও অভাবগ্রস্তদের ন্যায্য অধিকারের স্বীকৃতি প্রদান করেছে। আশির চেয়েও বেশি বার জাকাত প্রদানের নির্দেশ করেছেন আল্লাহ পাক আল কুরআনে। এ ব্যাপারে আল কুরআনের আদেশের ভাষাও অকাট্য ও কঠোর যেমন ‘ওদের সম্পদ ও সম্পত্তিতে ভিখারি আর নিঃস্বদের হক অবশ্যই রয়ে গেছে।’
আল্লাহ পাক নারীকে মায়ের মর্যাদা দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। মা তার মাতৃত্বের কারণে শ্রদ্ধা, সম্মান ও সুন্দর আচরণ পাওয়ার হকদার। তাই ‘মা’ নারী ও পুরুষ সবার কাছে মর্যাদার স্বর্ণশিখরে অধিষ্ঠিত। এ নিখিল বিশ্বে মায়ের কোল হচ্ছে নিরাপদ আশ্রয়স্থল। মাতৃস্নেহ এক জান্নাতি নিয়ামত। ‘মা’ স্নেহের পরশ দিয়ে সন্তানাদির হৃদয়কোণে স্বস্তি, সান্ত্বনা ও প্রশান্তি উপহার দেয়। সন্তানকে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলে।
একবিংশ শতাব্দীতে আজ সবার মাঝে আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে। বর্তমানে উঠতি বয়সের তরুণ-তরুণীদের মধ্যে এ আধুনিকতার ছোঁয়া সবচেয়ে বেশি পরিলক্ষিত হয়। অপ্রিয় হলেও সত্য কথা বলতে হয় এ প্রজন্মের তরুণ-তরুণীরা তাদের পোশাক-আশাকের ব্যবহার, তাদের চালচলন এবং মাথার চুলগুলো এমনভাবে রাখছে তাতে এদের দেখে চেনা বড় দায় এরা ছেলে না মেয়ে।
অহংকার মানুষকে ধ্বংস করে। ঘৃণিত করে। সমাজে তার ওজন কমিয়ে দেয়। ভালো বুদ্ধি, যুক্তি ও চিন্তা সে গ্রহণ করতে পারে না। পাশাপাশি যিনি নিরহংকার তিনি সবার কাছে সম্মানিত, তাকে সবাই ভালোবাসে। আপন করে নেয়। তাছাড়া যিনি সুশিক্ষিত, মার্জিত ও জ্ঞানে টইটম্বুর তিনি ব্যবহারে প্রোজ্বল। তিনি কাউকে খাটো করে দেখেন না।
মানুষ আশরাফুল মাখলুকাত বা সৃষ্টির সেরা জীব। আল্লাহতায়ালা মানুষকে অসংখ্য নেয়ামত দান করেছেন। তার মধ্যে বিশেষ একটি নেয়ামতের নাম স্বাধীনতা। স্বাধীনতা মানুষের জন্মগত অধিকার। এর প্রমাণ মিলে বিশ্বমানবতার মুক্তির অগ্রদূত মুহাম্মদ (সা·)-এর পবিত্র মুখনিসৃত বাণীতে। তিনি বলেছেন, ‘প্রত্যেক মানব সন্তান ফিতরাতের ওপর জন্মগ্রহণ করে’ (মিশকাত)। এই ফিতরাত বা প্রকৃতির মধ্যেই স্বাধীনতার মর্মকথা নিহিত রয়েছে।
স্বাবলম্বী হওয়াকেই মূলত স্বনির্ভতা বলে। সে-ই একজন সুখী মানুষ যে নিজের পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় চাহিদাগুলো পূরণে সম্পূর্ণ সক্ষম। সাংসারিক ব্যয়, সন্তানের শিক্ষাদীক্ষা ও চিকিৎসাসহ মৌলিক প্রয়োজনাদি মিটিয়ে একজন গৃহস্বামী যদি সচ্ছল জীবনযাপন করতে পারে তবেই সে পার্থিবজীবনে একজন সুখী মানুষ। আর আল্লাহর কাছেও প্রিয় বান্দা হিসেবে পরিগণিত হবে যদি জীবনের সব কিছুকে সে ইবাদতের নিয়তে আল্লাহর বিধানানুযায়ী সম্পন্ন করতে পারে।
(Page 1 of 5)   
« Prev
  
1
  2  3  4  5  Next »


No popular authors found.
No popular articles found.