Islamic Article Archive

দৈনন্দিন জীবনে ইসলাম

(Page 3 of 9)   « Prev  1  2  
3
  4  5  Next »
ব্যক্তিগতভাবে মানুষের ক্ষমতার তারতম্য এবং জীবনের রূঢ় বাস্তবতার বিভিন্ন স্তর থাকে। অন্তর্দৃষ্টি ও ফিকহের জ্ঞানের পাশাপাশি অন্যের এই বাস্তবতার প্রতিও পরস্পরের সহৃদয় অনুভূতি থাকা আবশ্যক। আন্দোলনের ক্ষেত্রে সবার কাছ থেকে হজরত হামজাহ ইবনে আবদুল মুত্তালিব রাঃ-এর মতো শাহাদাতের শৌর্য প্রত্যাশা করা ঠিক হবে না। এটি এমন একটি মহৎ গুণ, গভীরতম নিষ্ঠা ও অধ্যবসায় ছাড়া যার প্রকৃত মর্ম খুব কম লোকই অনুধাবন করতে পারে।
গীবত-এর আভিধানিক অর্থ হচ্ছে- অপবাদ, অসাক্ষাতে নিন্দা, কুৎসা রটনা, কলঙ্ক রটনা, কারো চরিত্র হননের জন্য বিবৃতি দেয়া ইত্যাদি। ইসলামী পরিষাভায় গীবত হচ্ছে কারো সম্বন্ধে তার অনুপস্থিতিতে এমন কোনো কথা বলা, যা শুনলে অপ্রিয় মনে হবে। অপরের দোষের দিকে দৃষ্টি রেখে যে কথা বলা হয়, তাই গীবত। গীবত সম্পর্কে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর যেসব হাদীস রয়েছে এগুলোর মর্ম হচ্ছে ‘যা সম্মুখে বললে মনে বিরক্তি ও কষ্ট আসে, অগোচরে তা বলাই গীবত।’
বৃক্ষ মানুষের জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। গাছপালা ব্যতীত মানুষের অস্তিত্ব কল্পনা করা যায় না। শুধু মানুষই নয় গাছ ব্যতীত কোন প্রাণীই জীবন ধারণ করতে পারবে না। বর্তমানে বিশ্বব্যাপী তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়ে পরিবেশের ভারসাম্য হারিয়ে যাওয়ার পেছনে প্রধানত দায়ী বৃক্ষ স্বল্পতা। গাছপালার স্বল্পতার কারণে ভূপৃষ্ঠে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। ফলে সৃষ্টি হচ্ছে গ্রীন হাউজ প্রতিক্রিয়া। বিশ্বপ্রকৃতির অস্তিত্বের প্রশ্নে ব্যাপকভাবে গাছ লাগানোর কোনো বিকল্প নেই।
জীবনযাপনে মধ্যপন্থা অবলম্বনই প্রশংসনীয়। মধ্যপন্থা বলতে ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থাকে বুঝায় যা চরমপন্থার বিপরীত। নিক্তির এক পাত্রে বাটখারা এবং অপর পাত্রে পণ্য বোঝাই করার পর নিক্তির কাঁটা ঠিক সোজা অবস্থানে এলে এই অবস্থাকেই ভারসাম্য বলা হয়। এক দিক থেকে অপর দিকে কমবেশি হলে ভারসাম্যহীনতা। মানবজীবনের নিক্তির কাঁটাও তদ্রূপ। যেকোনো এক দিকের প্রতি বেশি বা কম গুরুত্ব প্রদান করলে মধ্যম বা কেন্দ্রীয় অবস্থান নষ্ট হয়। কুরআন মজিদে মধ্যপন্থা অবলম্বনের ওপর গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে।
আল্লাহ্‌তায়ালার অপরূপ কুদরতের বিচিত্র নিদর্শনস্বরূপ পবিত্র কোরআনের বিভিন্ন জায়গায় গাছপালার উল্লেখ রয়েছে। এরশাদ হচ্ছে- তিনি (আল্লাহ) তোমাদের বৃক্ষ থেকে আগুন উৎপাদন করে দিয়েছেন তা থেকে তোমরা আগুন জ্বালিয়ে থাক, সে সম্বন্ধে তোমরা ভেবে দেখেছ কি? গাছপালা, উদ্ভিদরাজি যে মহান আল্লাহ্‌তায়ালার একটি বড় নেয়ামত সে সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে-মানুষ তার খাদ্যের প্রতি লক্ষ্য করুক। আমি প্রচুর বারি বর্ষণ করি। অতঃপর আমি ভূমিকে ভালভাবে বিদীর্ণ করে তাতে উৎপন্ন করি শস্য, আঙ্গুর, শাক-সবজি, জায়তুন (তেল), খেজুর, বহু বৃক্ষবিশিস্ট উদ্যান, ফলমূল এবং গবাদিপশুর খাদ্য। এটা (আমি করি) তোমাদের ও গবাদিপশুর ভোগের জন্য। (সূরা আবাসাঃ ২৪-৩২)। আরও এরশাদ হচ্ছে তাদের জন্য একটি নিদর্শন হচ্ছে মৃত ধরিত্রী, যাকে আমি জীবিত করি এবং তা থেকে উৎপন্ন করি শস্য যা তারা ভক্ষণ করে। তাতে আমি উৎপন্ন করি খেজুর ও আঙ্গুরের উদ্যান এবং এতে আমি উৎসারিত করি প্রসবণ যাতে তারা এর ফলমূল ভক্ষণ করতে পারে। এগুলো তো তাদের হাতে সৃষ্টি নয়। তবুও কি তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবে না? (সূরা ইয়াসিনঃ ৩৩-৩৫)।
মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন মানুষকে আশরাফুল মাখলুকাত বা সৃষ্টিকূলের শ্রেষ্ঠ হিসাবে সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহ যেহেতু মানুষকে সেরা হিসাবে সৃষ্টি করেছেন সেহেতু মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোন অবকাশ নেই, এটাই স্বাভাবিক। মানুষ শ্রেষ্ঠরূপে পৃথিবীতে আসে ঠিকই তবে এই শ্রেষ্ঠত্ব টিকে থাকে তার কৃতকর্মের উপর।
গাছ মানুষের বন্ধু এবং বিশ্ব প্রভুর অনন্য নিয়ামত। সবুজ শ্যামল নৈসর্গিক পৃথিবী বিনির্মাণে, প্রাকৃতিক ভারসাম্য ও পরিবেশ সংরক্ষণে, অর্থনৈতিক নিরাপত্তায় ঝুঁকিহীন নিরাপদ বিনিয়োগে ও প্রাকৃতিক শোভাবর্ধনপূর্বক পর্যটন শিল্পের বিকাশে গাছ আজ আমাদের জীবনসঙ্গী। মানুষের জীবন-জীবিকার প্রয়োজনে, মানুষের নান্দনিক চেতনাকে শানিত করতে এবং আরণ্যকে প্রকৃতির মধ্যে মহান আল্লাহ তায়ালার শ্রেষ্ঠত্ব অনুধাবনের নিমিত্তে পৃথিবীতে গাছের জন্ম।
মানুষ সামাজিক জীব। সমাজবদ্ধ জীবনযাপন ছাড়া একাকী জীবন কারো কাম্য নয়। আবার পরিচিত সমাজের বাইরেও মানুষের পক্ষে চলা খুবই কঠিন। পৃথিবীর সমাজবদ্ধ কোনো মানুষই সামাজিক বিপর্যয় কামনা করতে পারেন না। মানুষ সব সময় সুখ ও শান্তি চায়। শান্তি মানুষের একটি আরাধ্য বিষয়। কিন্তু এই প্রত্যাশিত সুখ-শান্তি নির্ভর করে সমাজবদ্ধ মানুষের পারস্পরিক সম্পর্কের ওপর। উঁচু-নিচু, ধনী-দরিদ্র­ এসব পার্থক্যই আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন। মানুষের পারস্পরিক পরিচয়ের জন্যই এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ সূরা হুজরাতে এরশাদ করেছেন, ‘আমি মানুষকে বংশে গোত্রে বিভক্ত করে (ধনী ও দরিদ্র) সৃষ্টি করেছি, যাতে তারা পরস্পরে পরিচিতি লাভ করতে পারে।’
বৃক্ষ মহান আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে বান্দার জন্য এক বিশেষ নিয়ামত। মানবজীবনে বৃক্ষের প্রয়োজন অত্যধিক। মানুষের জীবনের বিভিন্ন প্রয়োজন মেটাতে বৃক্ষ উৎস হিসাবে কাজ করছে। বৃক্ষ ছাড়া মানুষের অস্তিত্ব কল্পনাই করা যায় না। বৃক্ষ স্রষ্টার অনুপম সৌন্দর্যের অপূর্ব নিদর্শন। বৃক্ষ রোপণ এবং এর গুণাগুণ সম্পর্কে পবিত্র কোরআন ও হাদিস শরীফে ব্যাপক আলোচনা করা হয়েছে। পাশাপাশি এ ব্যাপারে উম্মতদের উৎসাহিত করেছেন প্রিয় নবী (সা·)।
নৈতিক অবক্ষয়রোধে সবচেয়ে বেশী প্রয়োজন নৈতিকতাবোধের উজ্জীবন তথা সুন্দর আদর্শ স্থাপন। এ বিষয়ে আল্লাহর কুরআন ও নবীর আদর্শকে অনুসরণ করতে হবে। পবিত্র কুরআনে ঘোষণা করা হয়েছে ‘শপথ মানুষের এবং তাঁর যিনি একে সুঠাম করেছেন। সেই সফলকাম হবে যে নিজেকে পবিত্র করবে এবং সে-ই ব্যর্থ হবে নিজেকে কলুষাচ্ছন্ন করবে।’ (সূরা শামস আয়াতঃ ৭-১০)।
(Page 3 of 9)   « Prev  1  2  
3
  4  5  Next »


No popular authors found.
No popular articles found.