Islamic Article Archive

দৈনন্দিন জীবনে ইসলাম

(Page 4 of 9)   « Prev  2  3  
4
  5  6  Next »
ইহসান আরবী শব্দ। ‘হুসন’ শব্দ থেকে এসেছে। যার আভিধানিক অর্থ হচ্ছে ‘সুন্দর ব্যবহার’। ভালভাবে কোন কাজ সম্পাদন করা, কারো কষ্ট লাঘব করা ইত্যাদি। ইসলামের পরিভাষায় ‘ইহসান হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য উত্তমরূপে ইবাদাত করা এবং তার সৃষ্টির প্রতি ভালবাসা প্রদর্শন করা। এ প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, আল্লাহতা’আলার প্রতি এবং তাঁর সৃষ্টির প্রতি যাবতীয় কর্তব্য সুন্দর ও উত্তরমরূপে সম্পাদন করার নামই ইহসান। ‘ইহসান হচ্ছে কাজ ভালোভাবে ও সুচারুরূপে সম্পন্ন করা।
নর-নারীকে আল্লাহতায়ালা এমন গঠন, আকৃতি ও স্বভাব দিয়ে সৃষ্টি করেছেন যা সম্পূর্ণ ভিন্নতর, অথচ একের প্রতি অপরের আকর্ষণ অত্যন্ত প্রবল। নারী-পুরুষের পারস্পরিক সহযোগিতামূলক ভূমিকার অবদানেই গড়ে উঠেছে মানবসভ্যতা। আল্লাহ্‌ রাব্বুল আলামিন এ পৃথিবীর প্রথম মানুষ আদম আঃ-কে দ্বীনের বাহক মনোনীত করে নবুয়তি প্রদান করেন এবং ইসলামি জীবনধারা অনুযায়ী চলার নির্দেশ দেন।
ইহসান আরবি শব্দ। ‘হুসন’ শব্দ থেকে এসেছে। যার আভিধানিক অর্থ হচ্ছে সুন্দর ব্যবহার। ভালোভাবে কোনো কাজ সম্পাদন করা, কারো কষ্ট লাঘব করা ইত্যাদি। ইসলামের পরিভাষায় ‘ইহসান হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য উত্তমরূপে ইবাদত করা এবং তাঁর সৃষ্টির প্রতি ভালোবাসা প্রদর্শন করা। এ পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, মহান আল্লাহতায়ালার প্রতি এবং তাঁর সৃষ্টির প্রতি যাবতীয় কর্তব্য সুন্দর ও উত্তমরূপে সম্পাদন করার নামই ইহসান।
মহান স্রষ্টা ও সৃষ্টি এবং আরদ ও মা’বুদের মধ্যে বড়ই মধুর ও নিবিড় সুসম্পর্ক বিদ্যমান রয়েছে। আরদ হল দাস, বান্দা এবং মা’বুদ হল যিনি বান্দা বা দাসের নিকট সকল প্রকার আনুগত্য বা দাস্বত্বের অধিকার পাওয়ার যোগ্য। যার আদেশের বিন্দু পরিমাণ ও অমান্য বা অনাগ্রহ দেখাবার ক্ষমতা তার বান্দার নেই। আরদ ও মা’বুদের সম্পর্কোন্নয়নের বড় ধরনের মাধ্যমহল তার (মা’বুদের) যিকির বা স্মরণ।
মানবাধিকার মানে মানুষের অধিকার। মানুষ তার সামগ্রিক জীবন পরিচালনার জন্য যেসব মৌলিক অধিকারের ওপর একান্ত নির্ভরশীল, যা ছাড়া মানুষ পৃথিবীতে চলতে বা বাঁচতে পারে না এবং নিজের প্রতিভা, গুণাবলী ও বৃত্তি প্রকাশের স্বাধীনতাকে ভোগ করতে পারে না, তাই সবই মানবাধিকার। বর্তমানে এটি পৃথিবীর বহুল আলোচিত একটি বিষয়।
ইসলাম পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ধর্ম। এই শ্রেষ্ঠত্ব অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক সব ক্ষেত্রের মতো পারিবারিক ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। মানবজাতির প্রাথমিক ভিত্তি হলো তার পরিবার। পরিবার থেকেই পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে পড়ে। ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে সমাজ, অতঃপর অর্থনৈতিক লেনদেন, সেখান থেকে রাজনৈতিক কর্মকান্ডের সুত্রপাত। এভাবে মানবজাতির বিকাশ, সমাজ সভ্যতার সৃষ্টি, সংস্কৃতিবোধের উন্মেষ। যে জাতির পারিবারিক বন্ধন যত দৃঢ় সে সমাজ ততই উন্নত ও শক্তিশালী। পারিবারিক বন্ধনকে সুদৃঢ় করার জন্য যা কিছু প্রয়োজন মুসলিম সমাজে তার সব কিছুই বিদ্যমান রয়েছে।
প্রস্রাব-পায়খানা করার সময় কথা বলা, বিনা প্রয়োজনে কাশি দেয়া, কোরআনের আয়াত, হাদিসের অংশ, তাজিম বা সম্মানোপযোগী কোন কালাম পাঠ করা যাবে না। আল্লাহর নাম, রাসূলের নাম, যে কোন পয়গাম্বরের নাম, ফেরেশতার নাম, কোরআনের আয়াত বা আয়াতাংশ, হাদিসের অংশ বা অন্য কোন দোয়া-কালাম লিখিত আংটি বা অন্য কোন বস্তু প্রস্রাব-পায়খানা করার সময় সঙ্গে রাখা যাবে না। অবশ্য কাপড়ের মোড়ানো, তাবিজে ঢাকা ইত্যাদি বস্তু যদি জামার পকেটে থাকে, তবে তা মাকরুহ হবে না।
মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আশরাফুল মাখলুকাত মানব জাতিকে পৃথিবীতে প্রেরণ করে কতিপয় মহৎ গুণে গুণাম্বিত করেছেন। এ মহৎ গুণাবলীর মাধ্যমেই মানুষের মনুষ্যত্ব বিকশিত হয়। এমনই একটি গুণ হল অপরের প্রতি দয়া বা অনুগ্রহ প্রদর্শন করা। এটা মানুষের সহজাত প্রবৃত্তিও বটে। এছাড়া আল্লাহপাকের ৯৯টি গুণবাচক নামের মধ্যে অন্যতম একটি নাম হল ‘আর রাহমান’ বা পরম দয়ালু। তিনি তাঁর দয়ার মহাসমুদ্র থেকে একবিন্দু দয়া তাঁর প্রিয় বান্দাদের দান করেছেন। এজন্যই অপরের প্রতি দয়া প্রদর্শন মানব জাতির বিশেষ করে মুমিনদের একটি অপরিহার্য ও অনন্য বৈশিষ্ট্য।
আল্লাহ পাকের সেরা সৃষ্টি হচ্ছে মানুষ। আর সেই শ্রেষ্ঠত্বের মর্যাদা রক্ষা করা মানুষের একান্ত কর্তব্য। কিন্তু মানুষ কি ওই কর্তব্য যথাযথভাবে পালন করছে! অনেকে জ্ঞানের অভাবে তা করছে না। অথচ আল্লাহ মানুষকে জ্ঞান অর্জনের জন্য নানা নিদর্শন পৃথিবী জুড়ে ছড়িয়ে রেখেছেন।
‘পড়ুন, হে রাসূল (সা•) আপনার প্রভুর নামে যিনি আপনাকে সৃষ্টি করেছেন’ (সূরা আলাক-১-২)। ‘বিদ্যাচর্চা বা শিক্ষা অর্জন করা প্রত্যেক মুসলমান নর-নারীর জন্য ফরজ (অবশ্য কর্তব্য)’ হাদিস। ‘পূর্ণাঙ্গ মুসলিম তৈরি করাই হবে শিক্ষার উদ্দেশ্য’ (আল্লামা ইকবাল)।
(Page 4 of 9)   « Prev  2  3  
4
  5  6  Next »


No popular authors found.
No popular articles found.