Islamic Article Archive

মুসলিম সমাজে জুমার খুতবা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। জুমার সালাত সাপ্তাহিক হওয়ায় বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে লোকজন এতে উপস্থিত হন। জুমার দিনকে শ্রেষ্ঠ অভিহিত করা হয়। এ দিনটিতে দু’টি বিষয়ের প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়। এক. সালাতুল জুমা, দুই. খুতবাতুল জুমা। সালাত সাধারণ নিয়মে আদায় করতে হয় বলে এতে ইমামের যোগ্যতা ও অযোগ্যতার খুব একটা মূল্যায়ন করা হয় না। কিন্তু খোতবা বা ভাষণ সময়োপযোগী ও তথ্যপূর্ণ হওয়া চাই। এ বিবেচনা থেকেই জুমার খতিব হিসেবে যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেয়ার চিন্তা করা হয়।
আবু দাউদ শরিফ ও তিরমিযি শরিফে রেওয়ায়েতকৃত হাদিসে রাসূল সাঃ-এর ও জিবরাঈলের মধ্যে নামাজের সময় সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা এভাবে দেয়া হয়েছে­ হজরত আবদুল্লাহ বিন আব্বাস রাঃ বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাঃ এরশাদ করেছেন, ‘হজরত জিবরাঈল আঃ বায়তুল্লাহ শরিফের সন্নিকটে দু’দিন দু’দফা ইমামতি করে আমাকে নিয়ে নামাজ পড়েন। প্রথম দিন তিনি আমাকে নিয়ে জোহরের নামাজ সূর্য হেলে যাওয়ার অব্যবহিত পরেই পড়েন। তিনি আমাকে নিয়ে আসর এক ছায়া হতেই পড়েন। মাগরিবের নামাজ তিনি আমাকে নিয়ে রোজাদারের ইফতারের সময় পড়েন। এশার নামাজ তিনি আমাকে নিয়ে শাফাফ বা সান্ধ্য আলোর অব্যবহিত পরেই পড়েন এবং তিনি আমাকে নিয়ে ফজরের নামাজ পড়েন যখন রোজাদারের ওপর পানাহার হারাম হয়ে যায়। পরের দিন তিনি আমাকে নিয়ে ছায়া এক মিছ্‌ল হলে জোহরের নামাজ পড়েন। ছায়া দুই মিছ্‌ল হলে পর তিনি আমাকে নিয়ে আসরের নামাজ পড়েন। রোজাদার যখন ইফতার করে ফেলেন তখন তিনি আমাকে নিয়ে মাগরিবের নামাজ পড়েন। আমাকে নিয়ে তিনি এশার নামাজ রাতের এক-তৃতীয়াংশের সময় পড়েন। তারপর তিনি আমাকে নিয়ে ফজরের নামাজ পড়েন এমন সময় যখন এসফার, অর্থাৎ আলো হয়ে গেছে। তারপর তিনি আমার দিকে তাকালেন এবং বললেন, ‘হে মুহাম্মদ সাঃ এ হচ্ছে আপনার পূর্ববর্তী নবীগণের আঃ নামাজের সময়। নামাজগুলোর সময় হচ্ছে এ দুই সময়ের মধ্যবর্তী কাল।’
ইসলাম পাঁচটি ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত। নামাজ বা সালাত অন্যতম ইবাদতের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ। তাই পবিত্র কোরআনুল করীমে ৮২ জায়গায় নামাজ কায়েম করার প্রতি সুস্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে। ইসলামে নামাজের গুরুত্ব-তাৎপর্য যেমন অপরিসীম-তেমনি আল্লাহ পাকের রহমত ইহ-পরকালের মুক্তিলাভের প্রধান অবলম্বন হিসাবে নামাজের বৈশিষ্ট্য অতীব তাৎপর্যপূর্ণ। যে ব্যক্তি নামাজেয় আনুষঙ্গিক শর্তাবলী যথারীতি পালন করে নামাজ আদায় করবেন- আল্লাহ পাক স্বীয় আশ্রয় ও নিরাপত্তায় রাখার নিশ্চয়তা প্রদান করবেন। আমাদের মহানবী হজরত রাসূলে মকবুল (সাঃ) বলেছেন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ স্বচ্ছ নহর সমতুল্য অর্থাৎ দৈনিক পাঁচবার ঐ স্বচ্ছ পানিতে গোসল করলে যেমন শরীরের ময়লা, ধূলোবালি দূর হয়ে যায়, তেমনি পাঁচ ওয়াক্তের নামাজ সমুদয় গুনাহ রশি মাফ করে দেন। রাসূলে পাক (সাঃ) আরো বলেছেন, নামাজ ধর্মের ভিত্তি। যে ব্যক্তি নামাজ ত্যাগ করেছে সে ধর্মকে বিনাশ করেছে।
ইমাম আবু হানিফা (রাহ.)-এর মতে, চলমান রেলে ও বিমানে বিনা ওজরে ফরজ ও ওয়াজিব নামাজ বসে পড়া জায়েজ। অধিকাংশ ইমামের মতে চলমান রেল ও বিমানে বিনা ওজরে ফরজ ওয়াজিব বসে পড়া জায়েজ নেই। তবে যদি কোনো ওজর যেমন মাথা ঘুর্ণন ইত্যাদি দেখা দেয়, তাহলে জায়েজ।
যে কোন ব্যক্তি (কমপক্ষে) তিন মঞ্জিল (একজন লোক সাধারণভাবে পায়ে হেঁটে সমতল ভূমিতে তিন দিনে যতটুকু পথ অতিক্রম করে, তাকে তিন মঞ্জিল বলে) দূরবর্তী স্থানে যাওয়ার নিয়ত করে বাড়ি থেকে বের হলে, শরিয়ত অনুযায়ী তাকে মুসাফির বলা যাবে। যখন সে নিজ শহরের লোকালয় অতিক্রম করবে, তখন তার ওপর মুসাফিরের হুকুম বর্তাবে। যতক্ষণ পর্যন্ত নিজ শহর বা গ্রামের লোকালয়ের মধ্যে থাকবে, ততক্ষণ সে মুসাফির হবে না।
রুগ্ন ব্যক্তি যদি মাথা দিয়ে ইশারা করে নামাজ আদায়ে সক্ষম না হয়, তবে তিনি নামাজ পড়বেন না। আবার এ অবস্থা যদি একদিন একরাত থেকে বেশি সময় স্থায়ী হয়, তবে নামাজ একেবারে মাফ হয়ে যায়।
সুবেহ সাদেক বা প্রকৃত প্রভাতের উদয়ের সাথে সাথে সেহরির সময় শেষ এবং ফজরের নামাজের সময় শুরু হয় এবং সুবেহ সাদেকের সূচনাকাল নির্ধারণের সম্পর্ক রয়েছে ফজরের (প্রভাত) আলোর প্রকৃতি ও বিস্তৃতির সাথে। অপর দিকে এশা নামাজের সময় ‘শাফাক’ অর্থাৎ সান্ধ্য আলোর অস্তের সাথে সম্পর্কিত। দিগন্তের ওপর সূর্যের আলোর অবস্থা সবসময় এবং সর্বত্র এক রকম থাকে না বিধায় বিকল্প হিসেবে তাকদিরের মাধ্যমে ফাজরে সাদেক বা প্রকৃত প্রভাতের উদয় ও শাফাক বা সান্ধ্য আলোর অস্ত যাওয়ার সময় নির্ধারণ অতীব গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।
কোন অবস্থাতেই নামাজ ছাড়া যাবে না। যতক্ষণ পর্যন্ত দাঁড়িয়ে নামাজ পড়তে সক্ষম, ততক্ষণ দাঁড়িয়ে নামাজ পড়বেন। আর দাঁড়াতে সক্ষম না হলে বসে নামাজ পড়বেন। বসে বসে রুকু-সেজদাহ আদায় করবেন।


No popular authors found.
No popular articles found.