Islamic Article Archive

পাপ ও শাস্তি

গীবত-এর আভিধানিক অর্থ হচ্ছে- অপবাদ, অসাক্ষাতে নিন্দা, কুৎসা রটনা, কলঙ্ক রটনা, কারো চরিত্র হননের জন্য বিবৃতি দেয়া ইত্যাদি। ইসলামী পরিষাভায় গীবত হচ্ছে কারো সম্বন্ধে তার অনুপস্থিতিতে এমন কোনো কথা বলা, যা শুনলে অপ্রিয় মনে হবে। অপরের দোষের দিকে দৃষ্টি রেখে যে কথা বলা হয়, তাই গীবত। গীবত সম্পর্কে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর যেসব হাদীস রয়েছে এগুলোর মর্ম হচ্ছে ‘যা সম্মুখে বললে মনে বিরক্তি ও কষ্ট আসে, অগোচরে তা বলাই গীবত।’
মানুষ সামাজিক জীব। সমাজবদ্ধ জীবনযাপন ছাড়া একাকী জীবন কারো কাম্য নয়। আবার পরিচিত সমাজের বাইরেও মানুষের পক্ষে চলা খুবই কঠিন। পৃথিবীর সমাজবদ্ধ কোনো মানুষই সামাজিক বিপর্যয় কামনা করতে পারেন না। মানুষ সব সময় সুখ ও শান্তি চায়। শান্তি মানুষের একটি আরাধ্য বিষয়। কিন্তু এই প্রত্যাশিত সুখ-শান্তি নির্ভর করে সমাজবদ্ধ মানুষের পারস্পরিক সম্পর্কের ওপর। উঁচু-নিচু, ধনী-দরিদ্র­ এসব পার্থক্যই আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন। মানুষের পারস্পরিক পরিচয়ের জন্যই এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ সূরা হুজরাতে এরশাদ করেছেন, ‘আমি মানুষকে বংশে গোত্রে বিভক্ত করে (ধনী ও দরিদ্র) সৃষ্টি করেছি, যাতে তারা পরস্পরে পরিচিতি লাভ করতে পারে।’
পরশ্রীকাতরতা দ্বারা মানুষের মনের এমন অবস্থাকে বোঝানো হয়ে থাকে যা দ্বারা অন্য মানুষের উন্নতিতে যৎপরোনাস্তি মনোস্তাপের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অন্যের ধন-ঐশ্বর্য-প্রভাব-প্রতিপত্তিতে মন যারপরনাই থাকে দুঃখিত। তাই মন চায় অন্যের ধ্বংসে জ্বলে উঠতে।
প্রতারণা একটি সামাজিক ব্যাধি। আমাদের ব্যক্তিগত, সামাজিক ও জাতীয় জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই আজ একজন অপরজন কর্তৃক প্রতারিত হচ্ছে। এ মাত্রা দিন দিন যেন বেড়েই চলছে। প্রতারণার সুনির্দিষ্ট কোন ক্ষেত্র নেই। বরং নানাভাবে প্রতারণা করা হয়ে থাকে। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি ক্ষেত্র হলো কথা দিয়ে কথা না রাখা, মিথ্যা বলা, আমানতে খিয়ানত করা, দ্রব্যে ভেজাল মেশানো, পণ্য দ্রব্যের দোষ গোপন করা, নকল মুদ্রা চালিয়ে দেয়া, ওজনে কম-বেশি করা, বেশি দামের জিনিসের সাথে কম দামের জিনিস মিলিয়ে দেয়া, মিথ্যা হলফ করে অন্যের হক নষ্ট করা, মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়া, লেখাপড়ায় ফাঁকি দেয়া, পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন করা প্রভৃতি।
‘বড় বড় নিষিদ্ধ কাজগুলি হতে তোমরা যদি বেঁচে থাকতে পার, যে গুলি হতে দূরে থাকার জন্য তোমাদের বলা হচ্ছে, তাহলে তোমাদের অন্যান্য ত্রুটি-বিচ্যুতি ক্ষমা করে দেওয়া হবে এবং সম্মানজনক স্থানে তোমাদের প্রবেশ করানো হবে।’ (সূরা নিসা, ৩১ আয়াত)। সুধী পাঠকবৃন্দ আল্লাহতায়ালা আমাদের ভালোবাসেন। সে কারণে আমাদের গোনাহ মাফের অবাধ সুযোগ রেখেছেন। বড় বড় গোনাহ থেকে আমরা যদি মুক্ত থাকতে পারি বা কোন গোনাহ সংঘটিত হলে সঙ্গে সঙ্গে সহিহ তাওবা করতে পারি, তাহলে ছোট ছোট গোনাহগুলো আল্লাহতায়ালা আমাদের জন্য ধরবেন না। সেগুলো এমনিতেই মাফ করে দিবেন। আজকের আলোচনায় সেসব বড় বড় গুনাহের উল্লেখ করার প্রয়াস পেয়েছি, যেগুলো তওবা ছাড়া মাফ হয় না।
অপচয় ও অপব্যয় মানুষের মন্দ স্বভাবের অন্তর্ভুক্ত। সাধারণভাবে শব্দ দুটো একই অর্থবোধক মনে হলেও আসলে তা নয়। অপচয় হচ্ছে বৈধকাজে প্রয়োজনাতিরিক্ত ব্যয় করা, যাকে আরবীতে ‘ইসরাফ’ বলে, আর ইংরেজিতে Misuse বলে। আর অপব্যয় হচ্ছে অবৈধ কাজে ব্যয় করা যাকে আরবীতে ‘তাবযীর’ বলে আর ইংরেজীতে Wrongfull বা Imprudent-Spending বলে।
মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন পৃথিবী সৃষ্টি করে প্রয়োজনানুসারে স্থানে স্থানে স্তরে স্তরে সব কিছুই সাজিয়ে রেখেছেন। মানবজাতির উপকারার্থে এবং শান্তির জন্য। যার ফলে পৃথিবী আপনগতিতে আবহমানকাল চলে আসছে। পৃথিবী অস্থায়ী ও পরিবর্তনশীল এবং এটাই আল্লাহর বিধান। আল্লাহুতাআলা বলেন, আর আমি তো তোমাদের দুনিয়াতে প্রতিষ্ঠিত করেছি এবং তাতে তোমাদের জীবিকার ব্যবস্থাও করেছি। তোমরা খুব অল্পই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর। (সুরা আর রাফ-১০)


No popular authors found.
No popular articles found.