Islamic Article Archive

পুণ্য ও শান্তি

মাজার বা গোরস্তান। পুণ্যময় জায়গা হিসেবে যার পরিচিতি। প্রতিদিন এতে সমাবেশ ঘটে বহু পুণ্যার্থীর। সেজদা, বাবার নাম করে বিলাপ ইত্যাদি নানান পদ্ধতিতে প্রার্থনা করে থাকে কেউ কেউ। তবে মাজারকে পুণ্যময় স্হান মনে করে ইবাদত করার এই রুসুম চালু থাকলেও এর বাস্তবতা বড়ই তিক্ত। নামে-বেনামে যেসব মাজার বাংলাদেশে গড়ে উঠেছে খোঁজ নিয়ে দেখা যায় সেখানে এ নামে হয়তো কোনো বুযুর্গই ছিলেন না কিংবা থাকলেও তাদের আদর্শ ছিল ঠিক এর বিপরীত। কবরকে মাজার বানিয়ে উদ্দেশ্যমুলক ব্যবসা আজ দেশজুড়েই। কিন্তু এসব অবৈধ পন্হার সম্পুর্ণ বিপরীতে ব্যতিক্রমধর্মী সুন্নত তরিকায় কবর জিয়ারতের অনুপম আদর্শে একটি গোরস্তান গড়ে উঠেছে ঢাকার মিরপুরের শেওড়াপাড়ায়।
মুনাফিক আরবি শব্দ। এর অর্থ হলো ভণ্ড, কপট বা দুই মুখো। ইংরেজিতে বলে Hypocrite (হিপোক্রিট)। ইসলামের প্রতি প্রকাশ্যে আনুগত্য ও অন্তরে ঘৃণা করার নাম মুনাফিক। এটা কুফরির চেয়েও খারাপ ও জঘন্য চারিত্রিক অধঃপতন।
সদকায়ে জারিয়া আরবি শব্দ। সদকা শব্দের অর্থ দান করা এবং জারিয়া অর্থ প্রবহমান, সদাস্থায়ী প্রভৃতি। সদকায়ে জারিয়া হলো এমন দান যার কার্যকারিতা কখনো শেষ হবে না এবং তা কিয়ামত পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। অর্থাৎ এই পৃথিবী যত দিন থাকবে তত দিন পর্যন্ত কবরে শুয়ে শুয়ে সদকাকারী ব্যক্তি এর সওয়াব পেতেই থাকবে।
আমরা একসময় ছিলাম না, এখন আছি আর হয়তো কিছুদিন পর থাকব না এ পৃথিবীতে। মৃত্যুর আগমনে বিদায় জানাতে হবে সুন্দর এ ধরাধামকে। একটু কি ভেবেছি সে কথা? আমার বাবা ছিলেন, বাবার বাবা ছিলেন, ছিলেন দাদার বাবাও। তারা আজ আর কেউ নেই। আমিও একদিন থাকব না, চলে যাব। চলে আমাকে যেতেই হবে। কিন্তু ওপারের খেয়া পারাপারের কি সামান তৈরি করেছি। সঙ্গে কি কিছু নিয়ে যাচ্ছি জান্নাত লাভের আশায়? নবী মুহাম্মদ (সা•) বলেছেন, যে ব্যক্তি প্রত্যেহ পাঁচ ওযাক্ত নামাজের পর সঙ্গে সঙ্গে আয়তুল কুরসি পাঠ করবেন তার আর জান্নাতের মাঝে ব্যবধান থাকল মৃত্যু। অর্থাৎ মৃত্যু হলেই তিনি জান্নাতে যাবেন।
নবী (সা·) মসজিদে বলেছিলেন, হঠাৎ শয়তানের আগমন ঘটল সেখানে। শয়তানকে দেখে নবী (সা·) বললেন, কিরে, শয়তান, তুই আবার এখানে এসেছিস কেন? তুই তো পাপিষ্ঠ। শয়তান বলল, না গো নবী মুহাম্মদ, আমি আজ পাপ নিয়ে আসিনি। আমি আজ এমন একটি দোয়া নিয়ে এসেছি, যা পাঠ করলে কিয়ামতের দিন মানুষ জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে। নবী (সা·) একথা শুনে তো অবাক। ইবলিস আজ আবার একি সব কথা বলছে?
ইহসান আরবি শব্দ। ‘হুসন’ শব্দ থেকে এসেছে। যার আভিধানিক অর্থ হচ্ছে সুন্দর ব্যবহার। ভালোভাবে কোনো কাজ সম্পাদন করা, কারো কষ্ট লাঘব করা ইত্যাদি। ইসলামের পরিভাষায় ‘ইহসান হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য উত্তমরূপে ইবাদত করা এবং তাঁর সৃষ্টির প্রতি ভালোবাসা প্রদর্শন করা। এ পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, মহান আল্লাহতায়ালার প্রতি এবং তাঁর সৃষ্টির প্রতি যাবতীয় কর্তব্য সুন্দর ও উত্তমরূপে সম্পাদন করার নামই ইহসান।
যুগে যুগে আল্লাহতায়ালা যত জাতিকে দুনিয়াতে প্রেরণ করেছেন তাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ জাতি পবিত্র কোরআনের ভাষা অনুযায়ী আখেরি নবী (সাঃ)-এর উম্মতকেই মনোনীত করেছেন। আর এই শ্রেষ্ঠত্বের কারণ হল, এই উম্মত শুধু নিজের মুক্তির জন্যই নয়, বরং সব মানুষের মুক্তি আর কল্যাণের জন্য সৎকাজের আদেশ দেবে আর অসৎ কাজ থেকে ফিরিয়ে রাখবে। মহান আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেন, ‘তোমরা সর্বশ্রেষ্ঠ উম্মত, যে উম্মতকে বাহির করা হয়েছে মানুষের মঙ্গলের জন্য, তোমরা সৎ কাজের আদেশ কর, বরং অসৎ কাজের নিষেধ কর এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখ।’ (সূরাঃ আল ইমরান, আয়াতঃ ১১০)
বৃক্ষ আল্লাহর দান, প্রকৃতির অপূর্ব শোভা। বৃক্ষবিহীন পৃথিবী মলিন। বৃক্ষ মানবসহ তাবৎ প্রাণীকুলের বন্ধু। বৃক্ষ সকলকে জীবন রক্ষার প্রয়োজনীয় অক্সিজেন সরবরাহ করে। বৃক্ষ থেকে আমরা পাই জীবন ধারণের জন্য খাদ্য, জ্বালানি, বস্ত্র তৈরির সুতো, ঘর-বাড়ী নির্মাণের কাঠ, দৈনন্দিন ব্যবহার্য সমাগ্রী ও ঘর সাজানোর আসবাব। দুনিয়া থেকে বিদায়কালেও বৃক্ষ আমাদের কাজে আসে। যে খাট ব্যবহার করা হয় তা কিন্তু কাঠের তৈরি। বৃক্ষ প্রকৃতির শেষ্ঠ সম্পদ। বৃক্ষ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে এবং আবহাওয়া আর্দ্র ও নাতিশীতোষ্ণ রাখে। জলীয় বাষ্পপূর্ণ বাতাসে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে বৃক্ষ বৃষ্টিপাত ঘটায়।
মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন-এর একটি গুণবাচক নাম হলো- আর রাহমান বা পরম দয়ালু। তাঁর দয়ার মহাসমুদ্র হতে একবিন্দু দয়া তিনি তাঁর প্রিয় বান্দাহদেরকে দান করেছেন। এজন্যই অপরের প্রতি দয়া প্রদর্শন মু’মিনের একটি অপরিহার্য ও অনন্য বৈশিষ্ট্য। এ মর্মে বর্ণিত আছে, হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, রাসূল (সাঃ)কে বলতে শুনেছি- আল্লাহতা’য়ালা দয়াকে একশত ভাগে ভাগ করেছেন, তন্মধ্যে নিরানব্বই ভাগই নিজের কাছে রেখে পৃথিবীতে একভাগ মাত্র অবতীর্ণ করেছেন- যা দ্বারা গোটা সৃষ্টিকুল একে অপরের প্রতি দয়াপরবশ হয়, এমনকি ঘোটকী তার পায়ের ক্ষুর এ আশংকায় উঠিয়ে নেয় যে, পাছে যেন তার শাবক ব্যথা না পায়।’ (বুখারী) আর তাইতো দেখা যায় মুমিনের বৈশিষ্ট্যই হচ্ছে জালিম, নির্দয়, বেরহম, পাষাণ ও হ্নদয়হীন না হওয়া। বরং সমগ্র মানবতার জন্য স্নেহশীল, করুণা-প্রবণ, সহানুভূতিশীল এবং পরস্পরের শোকে-দুঃখে বেদনা অনুভবকারী হওয়া। ব্যক্তিগতভাবে একজন মুমিন আল্লাহর করুণার মূর্ত প্রকাশ এবং দলগতভাবেও মুমিনের দল আল্লাহর এমন এক নবীর প্রতিনিধি যার প্রশংসায় বলা হয়েছে- বিশ্ববাসীর জন্য রহমত ও করুণা হিসেবেই তোমাকে পাঠিয়েছি।” (সূরা আম্বিয়াঃ ১০৭)।


No popular authors found.
No popular articles found.