Islamic Article Archive

মাস ভিত্তিক আমল

(Page 1 of 3)   
« Prev
  
1
  2  3  Next »
বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে দেখেছেন, খাদ্য বেশি খেলে জীবনের দৈর্ঘ্য হ্রাস পায়। শুধু খাওয়ার মধ্যে থাকলে দেহযন্ত্রটি বিশ্রাম পায় না। ফলে নানা রকম জটিল রোগে ত্রুটি দেখা দেয়। দেহযন্ত্রটি সচল রাখার জন্য অবশ্যই সার্ভিসিং করা এবং রেস্ট দেয়ার প্রয়োজন হয়
রমজান শব্দটির মূল ধাতু হচ্ছে ‘রাম্‌জ’ অর্থাৎ দাহন। আরবি বর্ষপঞ্জির এটি নবম মাস। রমজানের সাধনার দাহনে ভক্ত সাধকদের সব পাপ-পঙ্কিলতা পুড়ে ছাই হয়ে যায়, আত্মার কালিমা দূর হয়, মুমিনের হৃদয়ে ঔজ্জ্বল্য আসে, তাই মাসটির নাম রমজান। পবিত্র কুরআনে একে কুরআন নাজিলের মাস বলা হয়েছে। ‘শাহরু রামাজানাল্লাজি উন্‌জিলা ফিহিল কুরআন।’ (বাকারাঃ ১৮৫)
ইসলামের মূল পাঁচটি রুকনের মধ্যে তৃতীয় রুকন হলো রোজা। রোজা শব্দটি ফারসি যার আরবি প্রতিশব্দ হলো সাওম। সাওমের আভিধানিক অর্থ থেমে যাওয়া, বিরত থাকা বা বিরত রাখা। ইসলামি শরিয়তে সুবহে সাদিক থেকে শুরু করে সূর্যাস্ত পর্যন্ত নিয়ত সহকারে কোনো কিছু পানাহার, পাপাচার ও কামাচার থেকে বিরত থাকার নামই সিয়াম বা রোজা। শুধু অনাহারে দিনযাপনের নাম সিয়াম নয়। শুধু উপবাসে স্বাস্থ্যগত কিছু উপকার হলেও হতে পারে, কিন্তু নৈতিক ও আত্মিক উন্নতির মুখ দেখা যেতে পারে না।
রোজা অসৎ প্রবৃত্তির মুখে ছিপি এঁটে দেয় এবং এর সব গলিপথ বন্ধ করে দেয়। রোজা এক দিকে অন্যায়-অনাচার ও অসততাকে নিষিদ্ধ করে দেয়, অপর দিকে দীর্ঘ সময় উপবাস থাকতে বাধ্য করে দেহের পাশবিক শক্তিকে দুর্বল করে দেয়। এভাবে বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ কঠোর নিয়ন্ত্রণের ফলে অসৎ প্রবৃত্তি দুর্বল ও পরাজিত হয় এবং সৎ প্রবৃত্তি প্রবল ও বিকশিত হয়। দীর্ঘ সময় এ অনুশীলনের ফলে রোজাদার ব্যক্তি অন্যায়, অসৎ ও দুর্নীতিমুক্ত হয়ে সৎ ও সুন্দর মানুষে পরিণত হতে পারে।
সোমবার সন্ধ্যা। বায়তুল মোকাররমে মাগরিব আদায় করেছি। উত্তর গেটের সিঁড়ি বেয়ে নামতেই ধর্মীয় বলয়ের লেখক মুহাম্মদ যাইনুল আবিদীনের সঙ্গে দেখা। চোখে চোখ পড়তেই লজ্জা পেলাম। কাছাকাছি বাসা, অথচ অনেকদিন দেখা নেই। খুব মায়াময় ভঙ্গিতে সালাম-মুসাফা হল। ব্যক্তিগত আলাপের পর শান্ত মনে জিজ্ঞেস করলাম- হুজুর তারাবি কোথায় পড়েন? নির্ধারিত কোন মসজিদ আছে কি? আপন ভঙ্গিতে জবাব দিলেন- বাসায় থাকলে হাজীপাড়ার ঝিল মসজিদে তারাবি পড়ি। খুব ভালো লাগে, হাফেজ হুসাইনুল আর হাফেজ মকনুনের পড়া বেশ।
বিশ্বে ফের আল্লাহ তা’আলার বেহেশ্‌তী মেহ্‌মান, মোমিন বান্দাদের জন্য মুক্তির পয়গাম নিয়ে, মহামহিমের নিকট হতে বিশ্ববাসীর জন্য শ্রেষ্ঠ উপহার মাহে রজমানের ‘সাওম’ বা রোজার সিয়াম সাধনা। এ এমন এক মাস, যার প্রতিটি মুহূর্তে মানবজীবনের সফলতায় মনিমুক্তার সমতূল্য। সময় অমূল্য সম্পদ, এর কোন বিনিময় মূল্য নেই, যদি সৎ কাজে ব্যবহার করা যায়।
রোজা আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় এবাদত। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘রোজা আমার জন্য এবং এর প্রতিদান আমি নিজ হাতে দেবো।’ রোজার দ্বারা খোদাভীতির যে পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন করা হয় তা অন্য কোনো এবাদতে সম্ভব নয়। রোজাদারকে আল্লাহতায়ালা ভালোবাসেন। রোজাদারের মুখের দুর্গন্ধও আল্লাহর কাছে প্রিয়।
রমজান হচ্ছে প্রশিক্ষণ গ্রহণের মাস। প্রতিটি দিন এবং প্রতিটি মুহূর্তই এখানে তাৎপর্যময়। এই প্রশিক্ষণ অর্জনের মাধ্যমে যেমন দুনিয়ার সাফল্য আসে তেমনি পারলৌকিক মুক্তি অর্জন করা যায়। ইসলামের প্রাথমিক যুগের ইতিহাসে দেখা যায় এ মাসে মুসলমানের কাজকর্ম বেড়ে যেত। এ মাসের প্রতিটি মুহূর্তে কাজের জন্য নেকি ও বরকত রয়েছে। শুধু ইবাদত করতে হবে, অন্য কোন কাজ করা যাবে না, তা ঠিক নয় বরং রোজাদারদের সব কাজের মধ্যে রমজান মাসে ইসলামের ইতিহাসে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সাঃ) ও তাঁর সাহাবিদের দীনি দাওয়াতি কাজ বহুগুণ বৃদ্ধি পেত।
দয়া, ক্ষমা ও মুক্তির পরশ নিয়ে আবারও আসছে রমজান। সবার প্রতীক্ষিত ইবাদতের উৎকৃষ্ট মৌসুম। মাত্র দু’দিন পরের এই বরকতময় দিনগুলোর জন্য চারদিকে সাজ সাজ শুরু হয়ে গেছে। অনেক আগেই পুণ্যময় এ প্র‘তির ছোঁয়া যেমন লেগেছে সাধারণ জনগণের ভেতর, তেমনি লেগেছে আমাদের আলেম সমাজের অঙ্গে। বিশেষ করে হাফেজদের এখন ব্যস্তমুহূর্ত।
চাঁদ দেখা নিয়ে মতভেদের কারণে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর মধ্যে একই দিনে ঈদের মতো পবিত্র দ্বীনি অনুষ্ঠানটি পালনে রয়েছে মতানৈক্য। আল্লাহপাক মুসলিম উম্মাহর জন্য আল-কোরআনে নির্দেশ দিয়েছেন- ‘তোমরা আল্লাহর রজ্জুকে দৃঢ়ভাবে ধারণ কর, দলে দলে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেও না, ঐক্যবদ্ধ হয়ে থাক’ (সূরা আলে এমরান-১০৩)। একসময় উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় আমরা সৌদি আরবের একদিন পর রোজা ও ঈদ পালন করতাম। বর্তমানে গোটা বিশ্বে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা হওয়ার পরও আমরা গত ২০০৬ ও ২০০৭ সালে সৌদি আরবের দু’দিন পর রোজা ও ঈদ পালন করেছি। ভাবতে অবাক লাগে, ইন্টারনেট যুগের উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা থেকে আমরা কি নিয়েছি?
(Page 1 of 3)   
« Prev
  
1
  2  3  Next »


No popular authors found.
No popular articles found.