Islamic Article Archive

মাস ভিত্তিক আমল

(Page 2 of 3)   « Prev  1  
2
  3  Next »
‘তোমরা পানাহার কর রাতের কৃষ্ণরেখা থেকে ঊষার শুভ্ররেখা সুস্পষ্টরূপে তোমাদের কাছে প্রতিভাত না হওয়া পর্যন্ত। অতঃপর রাতের আগমন পর্যন্ত রোজা পূর্ণ কর’। আল-কোরআন, সূরা বাকারা।
মহান রাব্বুল আলামীনের রহমত, বরকত ও নেয়ামতের মাস রমজানুল মুবারক। বিশ্বের সকল মুসলমানের নিকট এই পবিত্র মাসটি অতীব খুশি ও আনন্দের মাস। পার্থিব লোভ-লালসা মুক্ত রাখা, ত্যাগ-সহিষ্ণুতার পরাকাষ্ঠা এবং মানবিক মূল্যবোধে উজ্জীবিত হওয়ার প্রশিক্ষণে এ মাসের গুরুত্ব, মর্যাদা সীমাহীন। মাহে রমজানের রোজা পালন সম্পর্কে পবিত্র কোরআনুল করীমে সূরা বাকারা আয়াত ১৮৩ নম্বরে বলা হয়েছে- ‘ইয়া আইয়্যুহাল্লাজিনা আমানু কুতিবা আলাইকুমুচ্ছিয়ামু কামা কুতিবা আলাল্লাজীনা মি ক্বাবলিকুম- অর্থাৎ হে ঈমানদারগণ, তোমাদের ওপর রমজানুল মুবারক মাসের রোজা ফরজ করা হয়েছে। যে রূপ তোমাদের পূর্ববর্তীগণের উপর ফরজ করা হয়েছিল। যাতে তোমরা সাধুত্ব এবং পরিশুদ্ধতা লাভ করতে পারো
বিশ্বমানবতার মুক্তির বার্তা নিয়ে বছর পরিক্রমায় মুসলমানদের জীবনধারায় রমযান উপস্থিত। মুসলিম জনগোষ্ঠী এ মাস সিয়াম সাধনার মাধ্যমে রহমত বরকত ও মাগফিরাতের অফুরন্ত নিয়ামত হাসিল করার সুযোগ পাবে। আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে আত্মোন্নতি করে জীবনকে গঠন করে নিবে কুরআন নাযিলের এ মাসে। গোটা মুসলিম বিশ্ব যেমন সাজবে নতুন সাজে তেমনি মুমিনের জীবনও ধন্য হবে মুক্তির নতুন পরশে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষকরা কিভাবে শবেবরাত উদযাপন করেন তাদের দৃষ্টিভঙ্গিইবা কি জানার ইচ্ছে জাগে। ছাত্র-শিক্ষকদের কথা নিয়ে সাজানো হয়েছে আজকের আয়োজন।
কোন ক্ষমা প্রার্থনাকারী আছে কি? আমি ক্ষমা করে দেব। কোন জীবিকা সন্ধানী আছে কি? আমি তাকে জীবিকা দান করব তিনি আল্লাহর কাছে আরজ করেছেন, হে আল্লাহ! আমি তোমার ক্রোধ থেকে নিস্তার চাই এবং তোমার সন্তুষ্টি কামনা করি। হে আল্লাহ! তোমার জালাল ও জামাল গুণের শপথ, আমি তোমার আশ্রয় প্রার্থী। আর তোমার প্রকৃত গুণাগুণ বর্ণনা করা আমার পক্ষে দুঃসাধ্য, তুমি ওইরূপ যেরূপ নিজে নিজের গুণ বর্ণনা করেছ।
নবী করীম (স·) ইরশাদ করেন, শবেবরাতে আল্লাহতায়ালা উম্মতের ওপর রহমত নাজিল করেন আরবের বনি কাল্‌ব গোত্রের মেষপালের পশমের সমসংখ্যক
শবে বরাত। এমনই এক মহিমাম্বিত ও তাৎপর্য ও বরকতময় যে এই পবিত্র রাতে মানব জীবনের জন্য পরবর্তী বছরের ভাগ্য নির্ধারিত হয়। এই পুণ্যময় রজনীতে মহান স্রষ্টা রাব্বুল আলামীন তাঁর সকল বান্দাকুলের যাবতীয় মোনাজাত, ফরিয়াদ কবুল করে নেন এবং বিশেষ করে তাদের তওবা কবুল ও গুনাহরাশি মাফ করে দেন। তার আয়-রোজগার বাড়িয়ে দেন। যারা আল্লাহ পাক পরওয়ারদেগারের মহান দরবারে সমর্পিতচিত্তে সৎ, দ্বীন ও পার্থিব কর্তব্য যথাযথ পালনে একনিষ্ঠ, তারাই কেবল এই পুণ্যময় রাতে পুরস্কৃত হন। এ কারণেই পবিত্র শবেবরাত উদযাপনের গুরুত্ব, মরতবা প্রতিটি মুসলমানের কাছে তাৎপর্যবহ।
শা’বান আরবী বর্ষপঞ্জির অষ্টম মাস, এ মাসকে রাসুল (সাঃ) তাঁর নিজের মাস বলে আখ্যায়িত করেছেন। মাহে, রমযানুল মোবারককে যথাযথভাবে বরণ করে নেয়ার প্র‘তির মাস হিসেবেও একে অভিহিত করা হয়। বর্ষপরিক্রমায় যখনই মাসটি ঘুরে আসতো তখনই রাসুল (সাঃ) মহান রাব্বুল আলামীনের দরবারে দোয়া করতেনঃ আল্লাহুমা বারিকলানা ফি রাজাবা ওয়া শাবানা ওয়াবাল্লিগনা ইলা রামাদান। অর্থাৎ: হে আল্লাহ! আপনি আমাদের রজব ও শাবানের বরকতদান করুন এবং আমাদেরকে রমযান পর্যন্ত জীবিত রাখুন। মধ্য শাবানের শবে বরাতের মশহুর ফজিলতের কথা কোরআন-হাদীসের অসংখ্য দলিল দ্বারা প্রমাণিত।
মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের নিকট শান্তির প্রত্যাশায় ইবাদত অর্থাৎ তার দাসত্ব মেনে নেয়া এবং সকল আদেশ-নিষেধে আনুগত্য প্রকাশ করা। এ সম্পর্কে মহান আল্লাহতা’য়ালার অমিয়বাণীঃ ‘আমি মানুষ ও জ্বিন জাতিকে শুধু আমার ইবাদত করার জন্য সৃষ্টি করেছি। আমি তাদের নিকট কোন জীবিকা চাই না এবং কোনকিছু খেতেও চাই না।’ (সূরা যারিয়াতঃ ৫৬-৫৭)
মহান আল্লাহর বড় মেহেরবানি যে, তিনি বান্দাদের জন্য এমন কিছু মুহূর্ত ও সুবর্ণ সুযোগ নির্ধারণ করে রেখেছেন, যখন স্বল্প সময়ে অফুরন্ত সওয়াব ও কল্যাণ কামাই করা যায়। এগুলোর মধ্যে শবেবরাত তথা পুরো শাবান মাসটাই এক বিশেষ তাৎপর্যময় স্থান করে আছে। শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতকে আমাদের ধর্ম ও ঐতিহ্যের ভাষায় বলা হয় পবিত্র লাইলাতুল বারআত বা শবেবরাত। আর এর পক্ষকাল পরই রহমত, বরকত ও নাজাতের মাস মাহে রমজানুল মোবারক।
(Page 2 of 3)   « Prev  1  
2
  3  Next »


No popular authors found.
No popular articles found.